"ফ্রেশ হয়ে ফোন দিও"
অফিস থেকে ফিরতেই অবনীর ফোন এসে হাজির।এটা একটা রুটিন হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন এই একই সময়ে ফোন আসবে আর এই একই কথা বলবে।
আমি ফোন ধরতেই অবনী বললো,
-ফ্রেশ হয়ে ফোন দিও।কথাটি বলেই কেটে দিল।
আমি বুঝিনা এই মেয়ে কিভাবে বুঝতে পারে যে আমি বাসায় এসে গেছি আর এখন ফ্রেশ হবো।
"
অবনী আমার কলিগ।অফিসের কাজে মাঝে মাঝে কথা হয়।তবে মেয়েটা আমার অনেক কেয়ার করে।এর কারন আমার অজানা নয়। তবে সেটা কোনদিনই সম্ভব না।
'
আজও বুয়া আসে নি।এদিকে ক্ষুধায় শেষ।এখন বাইরে যাওয়াও সম্ভব না।এই সিড়ি বেয়ে নিচে নামা আমার মত অলসের কাজ না।তার চেয়ে না খেয়ে থাকাই ভাল।
"
আহাদ সাহেব।
'
অফিসে ঢুকতেই কেও একজন পেছন থেকে ডাক দিল।আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি অবনী দাঁড়িয়ে।আমি বললাম,
-কিছু বলবেন?
-আসলে আজ যদি আমার সাথে লাঞ্চ করতেন তাহলে খুশি হতাম।
অবনীর কথায় আমি কিছু বললাম না।চলে আসলাম।
"
এই মেয়ে মনে হচ্ছে আমাকে ছাড়বে না।একদম আঠার মত লেগে আছে।অবশ্য ওকে অপছন্দ করার কোন কারন থাকতে পারে না।মেয়েটাকে অসুন্দর বললে সুন্দরের অপমান করা হবে।কিন্তু আমার পক্ষে ওর মায়ায় পড়া সম্ভব না।
""
রাতে কিছু খাওয়া হয়নি। সকালেও না খেয়েই অফিসে এসেছি।এখন প্রায় দুপুর হয়ে গেছে।কিছু খাওয়া দরকার।সবাই হয়তো যার যার মত খেতে চলে গেছে।
'
হুম যেটা ভাবছিলাম সেটাই।সবাই খাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত।একদম ফাকা।হয়তো অফিস ক্যান্টিনে চলে গেছে।
আমি ক্যান্টিনের দিকে যেতেই দেখি অবনী এখনও ওর ডেক্সে বসে আছে।ও কি খেয়ে নিয়েছে।নাকি এখনও আমার জন্যে অপেক্ষা করছে।আমি অবনীর ডেক্সের সামনে গিয়ে বললাম,
-কি খাবেন না?
-একজনকে আসতে বলেছিলাম কিন্তু সে কিছু না বলেই চলে গেছে।
-তো আপনি খেয়ে নেন।
-না।একসাথে খেতে চেয়েছিলাম।সে খাবে না তাই আমিও খাব না।
'
অবনীর কথায় নীলার কথা মনে পড়ে গেল।মেয়েটাও আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝতো না।আমি না খেলে সে খেতো না।কিন্তু এখন সে দিব্বি খাচ্ছে অন্যের সাথে।অন্যের বুকে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে।
আমি অবনীকে বললাম,
-চলেন খেয়ে আসি।
আমার কথায় অবনীর মুখে হাসি ফুটে উঠলো।শুধু শুধু এই মেয়েকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি।
"
আচ্ছা আপনার পছন্দের খাবার কি?
'
ক্যান্টিনে ঢুকতেই যেন সবার চোখ আমার আর অবনীর দিকে পড়লো।এমন ভাবে সবাই তাকিয়ে আছে যেন এলিয়েন দেখছে।
আমি আর অবনী কোনার এক টেবিলে বসলাম।সবার মনোযোগ এখনও আমাদের দিকেই।এর অবশ্য একটা কারন আছে।যে ছেলে অফিসের কোন মেয়ের সাথে কথা বলে না কোন কাজ ছাড়া।সে আজ একটা মেয়ের সাথে তাও আবার লাঞ্চে।
"
আমি খাবার অর্ড়ার দিতেই অবনী কথাটি বলে উঠলো।আমি কিছু না বলে খাবারের অপেক্ষা আছি।অবনী আবারও বললো,
-আপনার প্রিয় খাবার কি?
-বিরিয়ানি।
অবনী আর কিছু বললো না।আমিও চুপচাপ খাওয়া শুরু করলাম।
"
স্যার আসবো?
'
অফিসে কাজ করছিলাম তখনি কেও কথাটি বলে উঠলো।আমি মাথা তুলে তাকিয়ে দেখি অবনী দাঁড়িয়ে।আমি বললাম,
-হুম আসেন।
-স্যার এটা আপনার জন্যে।
অবনী একটা টিফিন ক্যারিয়ার এগিয়ে দিয়ে কথাটি বলে উঠলো।আমি বললাম,
-কি এটা?
-আপনার জন্যে বিরিয়ানি।আমি নিজ হাতে রান্না করেছি।
-আমি কি আপনাকে বিরিয়ানি রান্না করতে বলেছি?
-না মানে আপনি পছন্দ করেন তাই।
'
মেয়েটা এমন কেন!সবসময় এড়িয়ে চলি,মাঝে মাঝে অপমান করতেও দ্বিধা বোধ করি না।তবুও কেন এমন করে।অন্য কেও হলে এতদিন চাকরী ছেড়ে চলে যেতে কিন্তু এই মেয়েটাকে যতই দূরে সরাতে চাই ও ততই কাছে আসে।
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই অবনী বললো,
-প্লিজ দুপুরে খেয়ে নেবেন।
কথাটি বলেই অবনী চলে গেল।এদিকে বিরিয়ানির গন্ধে পেটটা ভরে যাচ্ছে।বুয়া না আসায় সকালেও কিছু খাওয়া হয় নি।
"
আমি রফিক ভাইকে বলে পানি আনালাম।দুপুর হতে অনেক দেড়ি,এখনই খাওয়া যাক।আহ কি গন্ধ।অনেকদিন হল বিরিয়ানি খাওয়া হয় না।আমি বিরিয়ানি প্লেটে ঢালতেই অবনীর কথা মনে হলো।ও কি খেয়েছে নাকি আমার সাথে খাবে বলে এখনও না খেয়ে আছে।
"
অবনীর ফোনে মেসেজ দেওয়ার সাথে সাথেই মেয়েটা এসে হাজির।আমি কিছু না বলে ইশারায় বসতে বললাম।বিরিয়ানির
প্লেট এগিয়ে দিয়ে বললাম,
-হুম খাওয়া শুরু করেন।
-আসলে স্যার এটা আপনার জন্যে।
-হুম জানি।আর আমি খেলে যে আপনি খাবেন না সেটাও আমি জানি।
অবনী আর কিছু বললো না।তবে আমি ওর চোখে স্পষ্ট পানি দেখতে পেলাম।আমার জানা নেই এটা কিসের কান্না। জানতেও চাই না।
""
আহাদ সাহেব আপনার বাসা ছেড়ে দিতে হবে।
'
গেইট দিয়ে ঢুকতেই বাড়িওয়ালা কথাটি বললো।বাড়িওয়ালা কথায় আমি কিছুটা অবাক হলাম।হঠাৎ এ কথা কেন বললো।আমি বললাম,
-হঠাৎ এই কথা!
-আপনি বলেছিলেন আপনার সাথে আপনার মা বাবা থাকবে কিন্তু প্রায় চার মাস হয়ে গেলো তাদের আসার কোন নাম নেই।আর আমি ব্যাচেলর ভাড়া দেবো না।
কথাটি বলেই বাড়িওয়ালা চলে গেল।
'
আরে কাকে আমি বাসায় নিয়ে আসবো।আমার তো সবকিছু থাকতেও আমি একা।আর এখব আমি নতুন বাসা কোই পাবো।মাস শেষ হতে এখনও দশ বারো দিন।
""
রুমে ঢুকতেই অবনীর ফোন।এমনিতেই মাথাটা গরম হয়ে আছে তার উপর এখন ওনার ফোন। আমি ফোন ধরেই সব রাগ অবনীর উপর ঝেড়ে দিলাম।মেজাজটা একেবারে গরম ছিল এখন একটু ভাল লাগতেছে।
আমি চুপ করতেই অবনী বললো,
-কি হয়েছে আজও বুয়া আসেনি?
এই মেয়েকে আল্লাহ কি দিয়ে বানিয়েছে।এত কথা শোনার পর কেও স্বাভাবিক ভাবে এই কথা বলতে পারে।অন্য কেও হলে এতক্ষনে আমার খবর করে ছেড়ে দিত।
আমি অবনীকে বললাম,
-আসলে বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেছে।তাই মেজাজটা খারাপ ছিল।সরি।
-ও এই কথা।কোন সমস্যা নাই।আপনি আমাদের বাসায় চলে আসেন।
-আপনাদের বাসা মানে?
-মানে, মানে হলো যে আমরা যে বাসায় থাকি এর উপরের তলায় পুরো ফাকা।আপনি চাইলে এই বাসাটা নিতে পারেন।
-কিন্তু ওখানে কি ব্যাচেলর ভাড়া দেবে?
-এটা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।আমি সব ম্যানেজ করে নেবো।
-ধন্যবাদ।
আমি ধন্যবাদ বলেই ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোনটা রেখে দিলাম।
"
বাহ ভাল তো।মেয়েটাকে এমনি এমনি কত কথা শোনালাম। ও না থাকলে তো বাসাটাও পেতাম না।ভালই হলো।
""
অফিস থেকে দুইদিনের ছুটি নিয়ে নিলাম।একা মানুষ তার উপর বাসা পালটানো অনেক ঝামেলা।
"
সবকিছু ঠিকঠাক করে নতুন বাসার দিকে রওনা দিলাম।আজ এই মেয়েটা না থাকলে কি যে হত।অবনীদের বাসার সামনে গাড়ি থামতেই দেখি অবনী দাঁড়িয়ে। একি ও এখনও অফিস যায়নি।আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় বারোটা বেজে গেছে।
"
আমি অবনীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-আপনি অফিস যাননি?
-আপনি একা মানুষ।তাই আপনাকে সাহায্য করার জন্য ছুটি নিয়েছি।
অবনীর কথায় আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না।মেয়েটা আমাকে এত ভালবাসে আর আমি কিনা সবসময় খারাপ ব্যাবহার করি ওর সাথে।
"
ঘর গোছাতে গোছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।মনে হচ্ছে ঘরটা অবনীর ই।মেয়েটা সেই প্রথম থেকে কোথায় কি রাখতে হবে,কোথায় রাখলে ভাল দেখা যাবে এসব বলছে।শুধু বলছে না সাথে সাথে সেটা আবার সেখানে রাখছেও।
মেয়েটা আমার জন্যে এতকিছু করলো আর আমি কিছুই করতে পারলাম না ওর জন্যে।আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই অবনী বললো,
-যান ফ্রেশ হয়ে নেন।আর রাতের খাবার এসে আমি দিয়ে যাব।কথাটি বলেই অবনী চলে গেলো।
নীলাও এরকম ছিল। কিন্তু এখন তো ও অন্যের ঘর গোছাতে ব্যাস্ত।
""
এই বাসায় আসার পর থেকে দারওয়ান থেকে বাসার সবাই কেমন যেন আমাকে একটু বেশীই সন্মান দিচ্ছে।মনে হচ্ছে এই বাড়ির মালিক আমিই।
তবে আরও একটা দিক ভাল হয়েছে।এখন আর বুয়ার রান্না খেতে হয় না।অবনী নিজেই রান্না করে নিয়ে আসে।মেয়েটার রান্নার হাত বেশ ভাল।
"
অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম।কেমন যেন জ্বর জ্বর লাগছে। মাথাটাও ব্যাথা করতেছে।
কলিংবেল বেজেই চলছে।কিন্তু উঠে দরজা খোলার শক্তিটা পাচ্ছি না।এদিকে অবনী কলিং বেল বাজিয়েই চলছে রাতের খাবারের জন্যে।
"
অবশ্য আমার রুমের চাবি অবনীর কাছেও একটা আছে।মাঝে মাঝে এসে রুম পরিষ্কার করে দিয়ে যায়।আর রান্না করে ফ্রিজে রেখে দেয়।
হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ পেলাম।হুম অবনীই হবে।
"
অবনী আমার মাথায় পানি ঢালছে আর কি সব যেন বলছে।এদিকে ওর চোখের পানি আমার কপালে পড়ছে।নাহ মেয়েটাকে আর কষ্ট দেওয়া যাবে না।
"
অবনী আমাকে খায়িয়ে দিচ্ছে আর আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি।চোখ দুটা একদম লাল হয়ে আছে।
আমি যখনি অবনীকে আমার সবকিছু বলতে যাব তখনি অবনী বললো,
-আমি সবকিছু জানি।আর সবকিছু জেনেই তোমাকে ভালবাসি।
-কিন্তু কিভাবে?
-তোমার ডায়রি পড়ে।অফিসে একদিন ভুলে ফেলে রেখে গিয়েছিলে।
কিছুদিন হল ডায়রিটা পাচ্ছি না।তার মানে ডায়রিটা অবনীর কাছে। আমি আর কিছু না বলে অবনীর কোলে মাথা রাখলাম।অবনী বললো,
-আমি তোমাকে একটা কথা মিথ্যে বলেছি।
-কি?
-আসলে এই বাড়িটা আমাদের।নিজের পায়ে দাড়াবো বলে বাবার কোম্পানিতে না ঢুকে নিজের যোগ্যতায় চাকরি করছি।
আমি আর অবনীকে কিছু না বলে আরও শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলাম।অবনী এবার আমার কপালে একটা চুমু একে দিল।শান্তির চুমু।
আমি ফোন ধরতেই অবনী বললো,
-ফ্রেশ হয়ে ফোন দিও।কথাটি বলেই কেটে দিল।
আমি বুঝিনা এই মেয়ে কিভাবে বুঝতে পারে যে আমি বাসায় এসে গেছি আর এখন ফ্রেশ হবো।
"
অবনী আমার কলিগ।অফিসের কাজে মাঝে মাঝে কথা হয়।তবে মেয়েটা আমার অনেক কেয়ার করে।এর কারন আমার অজানা নয়। তবে সেটা কোনদিনই সম্ভব না।
'
আজও বুয়া আসে নি।এদিকে ক্ষুধায় শেষ।এখন বাইরে যাওয়াও সম্ভব না।এই সিড়ি বেয়ে নিচে নামা আমার মত অলসের কাজ না।তার চেয়ে না খেয়ে থাকাই ভাল।
"
আহাদ সাহেব।
'
অফিসে ঢুকতেই কেও একজন পেছন থেকে ডাক দিল।আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি অবনী দাঁড়িয়ে।আমি বললাম,
-কিছু বলবেন?
-আসলে আজ যদি আমার সাথে লাঞ্চ করতেন তাহলে খুশি হতাম।
অবনীর কথায় আমি কিছু বললাম না।চলে আসলাম।
"
এই মেয়ে মনে হচ্ছে আমাকে ছাড়বে না।একদম আঠার মত লেগে আছে।অবশ্য ওকে অপছন্দ করার কোন কারন থাকতে পারে না।মেয়েটাকে অসুন্দর বললে সুন্দরের অপমান করা হবে।কিন্তু আমার পক্ষে ওর মায়ায় পড়া সম্ভব না।
""
রাতে কিছু খাওয়া হয়নি। সকালেও না খেয়েই অফিসে এসেছি।এখন প্রায় দুপুর হয়ে গেছে।কিছু খাওয়া দরকার।সবাই হয়তো যার যার মত খেতে চলে গেছে।
'
হুম যেটা ভাবছিলাম সেটাই।সবাই খাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত।একদম ফাকা।হয়তো অফিস ক্যান্টিনে চলে গেছে।
আমি ক্যান্টিনের দিকে যেতেই দেখি অবনী এখনও ওর ডেক্সে বসে আছে।ও কি খেয়ে নিয়েছে।নাকি এখনও আমার জন্যে অপেক্ষা করছে।আমি অবনীর ডেক্সের সামনে গিয়ে বললাম,
-কি খাবেন না?
-একজনকে আসতে বলেছিলাম কিন্তু সে কিছু না বলেই চলে গেছে।
-তো আপনি খেয়ে নেন।
-না।একসাথে খেতে চেয়েছিলাম।সে খাবে না তাই আমিও খাব না।
'
অবনীর কথায় নীলার কথা মনে পড়ে গেল।মেয়েটাও আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝতো না।আমি না খেলে সে খেতো না।কিন্তু এখন সে দিব্বি খাচ্ছে অন্যের সাথে।অন্যের বুকে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে।
আমি অবনীকে বললাম,
-চলেন খেয়ে আসি।
আমার কথায় অবনীর মুখে হাসি ফুটে উঠলো।শুধু শুধু এই মেয়েকে কষ্ট দিয়ে লাভ কি।
"
আচ্ছা আপনার পছন্দের খাবার কি?
'
ক্যান্টিনে ঢুকতেই যেন সবার চোখ আমার আর অবনীর দিকে পড়লো।এমন ভাবে সবাই তাকিয়ে আছে যেন এলিয়েন দেখছে।
আমি আর অবনী কোনার এক টেবিলে বসলাম।সবার মনোযোগ এখনও আমাদের দিকেই।এর অবশ্য একটা কারন আছে।যে ছেলে অফিসের কোন মেয়ের সাথে কথা বলে না কোন কাজ ছাড়া।সে আজ একটা মেয়ের সাথে তাও আবার লাঞ্চে।
"
আমি খাবার অর্ড়ার দিতেই অবনী কথাটি বলে উঠলো।আমি কিছু না বলে খাবারের অপেক্ষা আছি।অবনী আবারও বললো,
-আপনার প্রিয় খাবার কি?
-বিরিয়ানি।
অবনী আর কিছু বললো না।আমিও চুপচাপ খাওয়া শুরু করলাম।
"
স্যার আসবো?
'
অফিসে কাজ করছিলাম তখনি কেও কথাটি বলে উঠলো।আমি মাথা তুলে তাকিয়ে দেখি অবনী দাঁড়িয়ে।আমি বললাম,
-হুম আসেন।
-স্যার এটা আপনার জন্যে।
অবনী একটা টিফিন ক্যারিয়ার এগিয়ে দিয়ে কথাটি বলে উঠলো।আমি বললাম,
-কি এটা?
-আপনার জন্যে বিরিয়ানি।আমি নিজ হাতে রান্না করেছি।
-আমি কি আপনাকে বিরিয়ানি রান্না করতে বলেছি?
-না মানে আপনি পছন্দ করেন তাই।
'
মেয়েটা এমন কেন!সবসময় এড়িয়ে চলি,মাঝে মাঝে অপমান করতেও দ্বিধা বোধ করি না।তবুও কেন এমন করে।অন্য কেও হলে এতদিন চাকরী ছেড়ে চলে যেতে কিন্তু এই মেয়েটাকে যতই দূরে সরাতে চাই ও ততই কাছে আসে।
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই অবনী বললো,
-প্লিজ দুপুরে খেয়ে নেবেন।
কথাটি বলেই অবনী চলে গেল।এদিকে বিরিয়ানির গন্ধে পেটটা ভরে যাচ্ছে।বুয়া না আসায় সকালেও কিছু খাওয়া হয় নি।
"
আমি রফিক ভাইকে বলে পানি আনালাম।দুপুর হতে অনেক দেড়ি,এখনই খাওয়া যাক।আহ কি গন্ধ।অনেকদিন হল বিরিয়ানি খাওয়া হয় না।আমি বিরিয়ানি প্লেটে ঢালতেই অবনীর কথা মনে হলো।ও কি খেয়েছে নাকি আমার সাথে খাবে বলে এখনও না খেয়ে আছে।
"
অবনীর ফোনে মেসেজ দেওয়ার সাথে সাথেই মেয়েটা এসে হাজির।আমি কিছু না বলে ইশারায় বসতে বললাম।বিরিয়ানির
-হুম খাওয়া শুরু করেন।
-আসলে স্যার এটা আপনার জন্যে।
-হুম জানি।আর আমি খেলে যে আপনি খাবেন না সেটাও আমি জানি।
অবনী আর কিছু বললো না।তবে আমি ওর চোখে স্পষ্ট পানি দেখতে পেলাম।আমার জানা নেই এটা কিসের কান্না। জানতেও চাই না।
""
আহাদ সাহেব আপনার বাসা ছেড়ে দিতে হবে।
'
গেইট দিয়ে ঢুকতেই বাড়িওয়ালা কথাটি বললো।বাড়িওয়ালা কথায় আমি কিছুটা অবাক হলাম।হঠাৎ এ কথা কেন বললো।আমি বললাম,
-হঠাৎ এই কথা!
-আপনি বলেছিলেন আপনার সাথে আপনার মা বাবা থাকবে কিন্তু প্রায় চার মাস হয়ে গেলো তাদের আসার কোন নাম নেই।আর আমি ব্যাচেলর ভাড়া দেবো না।
কথাটি বলেই বাড়িওয়ালা চলে গেল।
'
আরে কাকে আমি বাসায় নিয়ে আসবো।আমার তো সবকিছু থাকতেও আমি একা।আর এখব আমি নতুন বাসা কোই পাবো।মাস শেষ হতে এখনও দশ বারো দিন।
""
রুমে ঢুকতেই অবনীর ফোন।এমনিতেই মাথাটা গরম হয়ে আছে তার উপর এখন ওনার ফোন। আমি ফোন ধরেই সব রাগ অবনীর উপর ঝেড়ে দিলাম।মেজাজটা একেবারে গরম ছিল এখন একটু ভাল লাগতেছে।
আমি চুপ করতেই অবনী বললো,
-কি হয়েছে আজও বুয়া আসেনি?
এই মেয়েকে আল্লাহ কি দিয়ে বানিয়েছে।এত কথা শোনার পর কেও স্বাভাবিক ভাবে এই কথা বলতে পারে।অন্য কেও হলে এতক্ষনে আমার খবর করে ছেড়ে দিত।
আমি অবনীকে বললাম,
-আসলে বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেছে।তাই মেজাজটা খারাপ ছিল।সরি।
-ও এই কথা।কোন সমস্যা নাই।আপনি আমাদের বাসায় চলে আসেন।
-আপনাদের বাসা মানে?
-মানে, মানে হলো যে আমরা যে বাসায় থাকি এর উপরের তলায় পুরো ফাকা।আপনি চাইলে এই বাসাটা নিতে পারেন।
-কিন্তু ওখানে কি ব্যাচেলর ভাড়া দেবে?
-এটা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।আমি সব ম্যানেজ করে নেবো।
-ধন্যবাদ।
আমি ধন্যবাদ বলেই ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোনটা রেখে দিলাম।
"
বাহ ভাল তো।মেয়েটাকে এমনি এমনি কত কথা শোনালাম। ও না থাকলে তো বাসাটাও পেতাম না।ভালই হলো।
""
অফিস থেকে দুইদিনের ছুটি নিয়ে নিলাম।একা মানুষ তার উপর বাসা পালটানো অনেক ঝামেলা।
"
সবকিছু ঠিকঠাক করে নতুন বাসার দিকে রওনা দিলাম।আজ এই মেয়েটা না থাকলে কি যে হত।অবনীদের বাসার সামনে গাড়ি থামতেই দেখি অবনী দাঁড়িয়ে। একি ও এখনও অফিস যায়নি।আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় বারোটা বেজে গেছে।
"
আমি অবনীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-আপনি অফিস যাননি?
-আপনি একা মানুষ।তাই আপনাকে সাহায্য করার জন্য ছুটি নিয়েছি।
অবনীর কথায় আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না।মেয়েটা আমাকে এত ভালবাসে আর আমি কিনা সবসময় খারাপ ব্যাবহার করি ওর সাথে।
"
ঘর গোছাতে গোছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।মনে হচ্ছে ঘরটা অবনীর ই।মেয়েটা সেই প্রথম থেকে কোথায় কি রাখতে হবে,কোথায় রাখলে ভাল দেখা যাবে এসব বলছে।শুধু বলছে না সাথে সাথে সেটা আবার সেখানে রাখছেও।
মেয়েটা আমার জন্যে এতকিছু করলো আর আমি কিছুই করতে পারলাম না ওর জন্যে।আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই অবনী বললো,
-যান ফ্রেশ হয়ে নেন।আর রাতের খাবার এসে আমি দিয়ে যাব।কথাটি বলেই অবনী চলে গেলো।
নীলাও এরকম ছিল। কিন্তু এখন তো ও অন্যের ঘর গোছাতে ব্যাস্ত।
""
এই বাসায় আসার পর থেকে দারওয়ান থেকে বাসার সবাই কেমন যেন আমাকে একটু বেশীই সন্মান দিচ্ছে।মনে হচ্ছে এই বাড়ির মালিক আমিই।
তবে আরও একটা দিক ভাল হয়েছে।এখন আর বুয়ার রান্না খেতে হয় না।অবনী নিজেই রান্না করে নিয়ে আসে।মেয়েটার রান্নার হাত বেশ ভাল।
"
অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম।কেমন যেন জ্বর জ্বর লাগছে। মাথাটাও ব্যাথা করতেছে।
কলিংবেল বেজেই চলছে।কিন্তু উঠে দরজা খোলার শক্তিটা পাচ্ছি না।এদিকে অবনী কলিং বেল বাজিয়েই চলছে রাতের খাবারের জন্যে।
"
অবশ্য আমার রুমের চাবি অবনীর কাছেও একটা আছে।মাঝে মাঝে এসে রুম পরিষ্কার করে দিয়ে যায়।আর রান্না করে ফ্রিজে রেখে দেয়।
হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ পেলাম।হুম অবনীই হবে।
"
অবনী আমার মাথায় পানি ঢালছে আর কি সব যেন বলছে।এদিকে ওর চোখের পানি আমার কপালে পড়ছে।নাহ মেয়েটাকে আর কষ্ট দেওয়া যাবে না।
"
অবনী আমাকে খায়িয়ে দিচ্ছে আর আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি।চোখ দুটা একদম লাল হয়ে আছে।
আমি যখনি অবনীকে আমার সবকিছু বলতে যাব তখনি অবনী বললো,
-আমি সবকিছু জানি।আর সবকিছু জেনেই তোমাকে ভালবাসি।
-কিন্তু কিভাবে?
-তোমার ডায়রি পড়ে।অফিসে একদিন ভুলে ফেলে রেখে গিয়েছিলে।
কিছুদিন হল ডায়রিটা পাচ্ছি না।তার মানে ডায়রিটা অবনীর কাছে। আমি আর কিছু না বলে অবনীর কোলে মাথা রাখলাম।অবনী বললো,
-আমি তোমাকে একটা কথা মিথ্যে বলেছি।
-কি?
-আসলে এই বাড়িটা আমাদের।নিজের পায়ে দাড়াবো বলে বাবার কোম্পানিতে না ঢুকে নিজের যোগ্যতায় চাকরি করছি।
আমি আর অবনীকে কিছু না বলে আরও শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলাম।অবনী এবার আমার কপালে একটা চুমু একে দিল।শান্তির চুমু।
No comments